মুক্তকণ্ঠঅনলাইন মুক্তকণ্ঠঅনলাইন
Image
নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আলিপুরের বিশেষ POCSO আদালতের রায়

মুক্তকণ্ঠঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ :

২০১৩ সালের ঘটনার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সাজা ঘোষণা; দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ ইমতিয়াজকে ₹১ লক্ষ জরিমানার নির্দেশ

কলকাতা: নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আলিপুরের বিশেষ POCSO আদালত। সোমবার বিচারক রিম্পা রায় এই সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

মামলার ঘটনা বেশ কয়েক বছর আগের। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার বাসিন্দা প্রায় ছয় বছরের এক নাবালিকা তার মাসির বাড়িতে ছিল। অভিযোগ, সেই সময় মহম্মদ ইমতিয়াজ নামে ওই ব্যক্তি চকলেট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই তার উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর শিশুটির গুরুতর শারীরিক আঘাত হয় এবং তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। প্রায় দু’মাস চিকিৎসা চলেছিল বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পর শিশুটির মাসির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর মহম্মদ ইমতিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আলিপুরের বিশেষ POCSO আদালতে বিচারাধীন ছিল।

তবে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এক পর্যায়ে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে অভিযুক্ত জামিন পেয়েছিলেন। জামিনে মুক্তির পর তিনি আর আদালতের সামনে হাজির হননি বলে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য।

সরকারি আইনজীবী মাধবী ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে অন্য একটি মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলায় ইমতিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলাতেও জামিন পাওয়ার পর তিনি ফের নিখোঁজ হয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে। পরে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। 

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তার পর সোমবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং একই সঙ্গে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। 

এই মামলার রায় ফের এক বার শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার এবং আইনি সুরক্ষার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিচার POCSO আইনের অধীনে বিশেষ আদালতে হয়। এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল নাবালকদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বিচার নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন করা।

আলিপুরের বিশেষ POCSO আদালতের এই রায়ে বহু বছর আগের একটি মামলার বিচারিক পরিণতি ঘটল। তবে শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য আইনগত ও মানবিক কারণে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। 

হাইলাইট
আরো পড়ুন