দুর্গাপুজোর পাস নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, প্রা....
BREAKING NEWS
মুক্তকণ্ঠঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ :
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সল্টলেকে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি-মনোভাবাপন্ন চিকিৎসকদের একাংশ। সরকারি এবং বেসরকারি—দুই ক্ষেত্রের চিকিৎসকদেরই এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় এবং সহ-সভাপতি সুশান্ত রায়কে তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালীন অভিনব প্রতিবাদও দেখা যায় মেডিক্যাল কাউন্সিলের দফতরের সামনে। দু’টি ছাগলের গলায় কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি সুদীপ্ত রায় এবং প্রাক্তন সভাপতি নির্মল মাজির ছবি ঝুলিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। নির্মল মাজি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। ২০২২ সাল থেকে ওই পদে রয়েছেন সুদীপ্ত রায়।
বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসকদের কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার পিছনে মেডিক্যাল কাউন্সিলের বর্তমান এবং প্রাক্তন নেতৃত্বের দায় রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় ভূমিকা নিলে এই ধরনের অভিযোগ এতটা ছড়িয়ে পড়ত না।
ইতিমধ্যেই ভুয়ো চিকিৎসক হিসেবে অভিযোগ ওঠা পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলও সম্প্রতি শেখ ইউনুস হাসান, উত্তম মাইতি, হাফিজুর হালদার, জুলফিকার মণ্ডল এবং সাইদুল হকের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলফিকার মণ্ডল এবং সাইদুল হকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর একই—৩৬৪৪২। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে দু’জনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্যে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ভিন্রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে নাম নথিভুক্ত করা চিকিৎসকদের নথি নতুন করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই তালিকায় অন্তত ছ’হাজার চিকিৎসক থাকতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের কয়েক জন সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন জমা দেয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কয়েক জন চিকিৎসক অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের আনা অভিযোগ মানতে নারাজ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে ভিন্রাজ্য থেকে চিকিৎসা-শিক্ষা সম্পন্ন করে রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া চিকিৎসকদের নথিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ও চিকিৎসক মহলে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তেমনই চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার দিকেও নজর রয়েছে। আগামী দিনে তদন্ত ও নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে এই বিতর্কে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার।
ইতিহাসে আজকের দিনে